Sunday, September 27, 2015

মোদের গরব


রবিবারের সকাল সকাল মোবাইল ফোনের ক্রমাগত ক্রন্দনে ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল | ফোনটি হাতে লইয়া দেখিলাম যে একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রের অ্যাপ্লিকেশন থেকে প্রায় এগারটি নোটিফিকেশন আসিয়াছে| ভারতের মহামান্য প্রধানমন্ত্রী এই সুদূর্স্থিত আমেরিকায় আসিয়াছেন | এবং আসিয়াই তড়িৎ-গতিতে বিভিন্ন কোম্পানির কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ-অধিবেশন করিতে শুরু করিয়াছেন | সংবাদমাধ্যম চিটাগুড়ের সহিত পিপীলিকা যেমন লাগিয়া থাকে, ঠিক সেইভাবেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সর্বক্ষণ লাগিয়া আছে এবং মিনিটে মিনিটে তিনি কি খাইলেন, কাহার সহিত হাত মিলাইলেন, কি বলিলেন, অম্লশূলে ভুগিতেছেন কিনা, ইত্যাদি খবর পরিবেশন করিতেছে | বুভুক্ষু জনতা গোগ্রাসে তা গিলিতেছে এবং দেশভক্তির পরিতৃপ্ত ঢেঁকুর তুলিতেছে| কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়া যাওয়াতে প্রধানমন্ত্রী মহাশয়ের উপর কিঞ্চিৎ রাগ হইলো | কিন্তু একই সাথে গর্বিত বোধ করিলাম | যদিও গর্বিত বোধ করিবার সঠিক যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজিয়া পাইলাম না | তবে মনে হইলো গর্বিত হওয়া উচিত ।
কিছুক্ষণ পর দেখিলাম যে বদন-পুস্তিকার কর্ণধার শ্রী মার্ক জুকার্বার্গের সহিত প্রধানমন্ত্রী একটি প্রশ্নোত্তর আসর বসাইবেন এবং তার প্রস্তুতি স্বরূপ শ্রী জুকারবার্গ তার প্রোফাইল ছবিটি একটি তেরঙা আস্তরণে মুড়িয়া দিয়াছেন | দেখিয়া আবার একটু গর্ব গর্ব পাইল | ডিম পাউরুটি খাইতে খাইতে প্রশ্নোত্তর আসরটির সরাসরি সম্প্রচার দেখিতে আরম্ভ করিলাম | দেখিলাম যে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী কি সুন্দর বলিউডি গানের তালে তালে শাহরুখ খানের মত হাত নাড়িতে নাড়িতে ঢুকিলেন |
তারপর শুরু হইলো কথোপকথন | শ্রী জুকারবার্গ লাজুক মুখে কহিলেন যে তিনি ভারতে আসিয়া মোক্ষ লাভ করিয়াছিলেন | বোধিবৃক্ষের তলে কিনা সেটা ঠিক বোঝা গেলনা | দেখিলাম প্রধানমন্ত্রী মহাশয় শ্রী জুকার্বার্গকে (পুত্রস্নেহেই হবে) "মার্ক" বলিয়া ডাকিলেন | মনে পড়িল তিনি আমেরিকার মহামান্য রাষ্ট্রপতি  শ্রী ওবামাকেও (মিত্র-স্নেহেই হবে) "বারাক" বলিয়াই সম্বোধন করিয়া থাকেন | এই সাহসিকতা দেখিয়া জামার কলার তুলিয়া দ্বিগুণ উৎসাহে পাউরুটি চিবাইতে আরম্ভ করিলাম |
প্রধানমন্ত্রী দেখিলাম শ্রী জুকার্বার্গের মোক্ষলাভের ঘটনাটিকে অপচয় যাইতে দিলেন না | মোটামুটি বিশ্ববাসীদের জানাইয়া দিলেন যে ভারতে আসিলেই সকল মনস্কামনা পূরণ হইবে | একটি আই.সী.ইউ রুগী ও তার ডাক্তারের উদাহরণ পেশ করিলেন যা ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না | ভারতবর্ষকে ডাক্তার ও বাকি গোটা বিশ্বকে রুগী বলিলেন বোধ হয় |
শ্রী জুকারবার্গ কহিলেন যে প্রধানমন্ত্রী মহাশয়ের জন্য প্রায় চল্লিশ হাজার প্রশ্ন জমা পড়িয়াছে | অবাক হইয়া দেখিলাম যে সেইখান থেকে শুধুমাত্র চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হইলো মাত্র | সময়ের অভাবেই হইবে কারণ প্রধানমন্ত্রী মহাশয় দেখিলাম সকল প্রশ্নের অত্যন্ত বিস্তৃত উত্তর দিলেন | প্রথমে ভাবিলাম সময় অপচয়ের চেষ্টা করিতেছেন | ধৃষ্টতা করিতেছি বুঝিতে পারিয়া নিজেই নিজেকে শাসন করিলাম |
কথোপকথন চলিতে থাকিল | মন্ত্রী মহাশয় অনেক রকম প্রকল্প করিবেন বলিলেন | যেমন ভারতবর্ষের সকল গ্রামগুলিকে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়া জুড়িয়া দিবেন | বিদ্যুতের অভাবে গ্রামবাসীরা অপটিক্যাল ফাইবার দিয়া ঠিক কি কার্যসিদ্ধি করিবেন বুঝিলাম না | তবে ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে অত বড় প্রকল্প না বুঝিবারই কথা |
তারপর মন্ত্রী মহাশয় বলিলেন যে তার সরকার ক্ষমতাসীন হইবার একশত দিনের মধ্যে আঠারো কোটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলাইয়া দিয়াছেন | নিন্দুকেরা অবশ্য বলিয়া থাকেন যে এই একাউন্টগুলির বেশির ভাগেই নাকি কোনো টাকা জমা পরে নাই | তবে পাগলে কি না বলে | গরিবগুর্বোদের কাছে একটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট যে স্ট্যাটাস সিম্বল, সেটা বোঝে কোন শালা |
মন্ত্রমুগ্ধ হইয়া মন্ত্রিবাণী শুনিয়া চলিলাম | এক জায়গায় উনি বলিলেন যে ভারতবর্ষে নাকি বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হইয়াছে যে কে কত সহজে নিজ রাজ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা করিয়া দিতে পারে| বঙ্গবাসী হওয়ার সুবাদে ব্যাপারটা ঠিক বিশ্বাস করিয়া উঠিতে পারিলাম না | আমাদের রাজ্য কোনকালেই প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নহে, আমরা চিরকালই উদার | তবে ঠিক বলা যায় না | হয়ত পরিস্থিতি বদলাইয়াছে | বেশ কিছুকাল দেশছাড়া | কতটুকুই বা জানি |
আকস্মিক কথা বলিতে বলিতে মন্ত্রী মহাশয় বলিয়া বসিলেন যে ভারতবর্ষে ব্যবসা করিবার খরচ কম | উদাহরণ স্বরূপ বলিলেন যে বদন-পুস্তিকাকে যদি আমেরিকায় এক কোটি খরচা করিতে হয় তাহলে ভারতবর্ষে সেই কাজটি দশ লক্ষে করা সম্ভব এবং তাই যদি হয় তবে বদন-পুস্তিকা ভারতে আসিবে কি না? জনতার দিকে তিনি প্রশ্নটি নিক্ষেপ করিলেন | উপলব্ধি করিলাম যে জনতা উত্তর দিতে বিশেষ উৎসাহ দেখাইল না | বোধ হয় নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া একটু শঙ্কিত হইয়া উঠিল | শ্রী জুকারবার্গ যদি মন্ত্রী মহাশয়ের কথায় সব কাজ ভারতে চালান করিয়া দ্যান তবে যেই ভারতীয়জাত মার্কিন মুলুক বাসীরা এতক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য গলা ফাটাইয়াছিলেন, তাহাদের কি হইবে?
এরপর এক দিল্লি বাসী মহিলা বিশুদ্ধ হিন্দি ভাষায় একটি প্রশ্ন করিলেন | তিনি দিল্লি থেকে এত দুরে আসিয়াছেন শুধু একটি প্রশ্ন করিবার জন্য, ভাবিয়া অবাক হইয়া গেলাম | তার প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী মহাশয় বলিলেন যে একমাত্র ভারতবর্ষেই দেবীদের পূজা করা হইয়া থাকে | নিজ জ্ঞানের প্রতি একটু সন্দেহ জাগিল| মিশরের এবং গ্রিক পুরাণে বেশ কিছু দেবীদের ব্যাপারে শুনিয়াছিলাম | তবে প্রধানমন্ত্রী মহাশয় যখন বলিতেছেন তখন ঠিকই বলিতেছেন মনে হল |
অবশেষে মন্ত্রী মহাশয় কে শ্রী জুকারবার্গ তাহার মাতার সম্পর্কে একটি প্রশ্ন করিয়া বসিলেন | দেখিলাম যে মন্ত্রী মহাশয় নিজের মাতার ব্যাপারে বলিতে বলিতে আবেগে বশীভূত হইয়া ভেউ ভেউ করিয়া কাঁদিয়া ফেলিলেন (অবশ্য সকলকে মনে করাইতে ভুলিলেন না যে তিনি এক সময়ে চা বিক্রি করিতেন)| দেখিয়া আমিও কাঁদিলাম | সংহতি বজায় রাখা উচিৎ | কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া গেলেন |

প্রশ্নোত্তর সভা শেষ হইলো | দেখিলাম বদন-পুস্তিকায় প্রচুর লোকজন শ্রী জুকার্বার্গের অনুসরণ করিয়া নিজ প্রোফাইল ছবিটি তেরঙা আস্তরণে মুড়িয়া দিয়াছে | দেখিয়া আবার গর্বিত বোধ করিলাম এবং ঊর্ধ্ববাহু নৃত্য আরম্ভ করিলাম | ডিম পাউরুটি ততক্ষণে শেষ হইয়া গিয়াছে |

Friday, September 18, 2015

খোঁজ

মে, ১৯৯২

- আসুন প্রফেসর | বাড়ি খুঁজে পেতে কোন অসুবিধা হয়নি তো?
- তেমন কিছু না | কেমন আছেন মিস্টার বোস?
- দেখতেই তো পাচ্ছেন | আর খুব বেশি দিন বাকি নেই | বসুন | কফি খাবেন?
- না, এখন খাব না | ডাক্তার কি বলছে?
- জবাব দিয়ে দিয়েছে | আর বড়জোর তিন থেকে চার মাস |
- সরি মিস্টার বোস |
- আরে না না | সরি বলার কিছু হয়নি | আই হ্যাভ লেড আ ভেরি হ্যাপি লাইফ | জীবনটাকে ঠিক যে ভাবে কাটাতে চেয়েছি, ঠিক সেই ভাবেই কাটিয়েছি |
- তা ঠিকই বলেছেন | সেটাই বা কজনে পারে?
- তবে একটাই ব্যাপারে একটু আফসোস হয় প্রফেসর | এই যে এত পড়াশোনা আর জ্ঞান অর্জন করলাম, এও তো আমার সাথেই চলে যাবে | আর সেই জন্যই আপনাকে ডাকা | আমার একটা শেষ ইচ্ছে আপনাকে পূরণ করতে হবে |
- শেষ ইচ্ছে?
- ইয়েস |
- বেশ, বলুন | কি ভাবে আমি সাহায্য করতে পারি?
- আমি চাই আপনি কোন ভাবে আমার এই সমস্ত জ্ঞান কে বাঁচিয়ে রাখুন | আমি মারা যাবার পরেও থেকে যাব আমার এই কষ্টার্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে | এবং সমস্ত পৃথিবীর লোক যেন সেই জ্ঞান ভাণ্ডার কে ব্যবহার করতে পারে |
- তেইশে এপ্রিল থেকে বিজ্ঞান চর্চা ছেড়ে দিয়েছি | এখন আর এসব কাজে মন বসে না মিস্টার বোস|
- আমি জানি প্রফেসর | কিন্তু এই কাজ কেউ পারলে একমাত্র আপনিই পারবেন | আর ভেবে দেখুন এতে গোটা মনুষ্যজাতির কত উপকার হবে!
- তার চেয়ে আমি বরং আপনাকে সারিয়ে তুলি | আমার ওষুধটা এখনো একটু বাকি রয়েছে |
- না প্রফেসর | বেঁচে থাকার আর কোন ইচ্ছে আমার নেই | ঠিক যেই কারণে আপনি বিজ্ঞান চর্চা ছেড়ে দিয়েছেন, আমারও সেই একই কারণে জীবনের প্রতি অরুচি ধরে গেছে | আর বেঁচে থাকলেও কতজন কেই বা সাহায্য করতে পারব এই গলির ভেতর বসবাস করে |
- হু | কথাটা ঠিকই বলেছেন | কিন্তু...
- প্লিজ প্রফেসর | এই কাজটা করে দিলে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব |
- ঠিক আছে | একটু ভেবে নিতে দিন যে কাজ টা কি করে করব |
- ধন্যবাদ প্রফেসর | অনেক, অনেক ধন্যবাদ |

*******************************
জুলাই, ১৯৯২

- রেডি মিস্টার বোস?
- রেডি প্রফেসর |
- আপনি খুব মহৎ একটি কাজ করতে চলেছেন | পৃথিবীর লোক আপনার নাম মনে রাখবে |
- নামের মোহ আমার নেই প্রফেসর | খেয়াল রাখবেন কেউ যেন জানতে না পারে যে আমরা এই কাজটি করেছি |
- বেশ, তাই হবে |
- গুড বাই প্রফেসর |
- গুড বাই মিস্টার বোস |
মেশিন এর সুইচ টা টিপে দিলেন প্রফেসর | মিস্টার বোস এর দেহ টা একবার সামান্য কেঁপে উঠে নিথর হয়ে গেল | সারা ঘর জুড়ে তখন গম গম করছে মেশিন এর আওয়াজ |

*******************************
জুলাই, ১৯৯৬

ঠক ঠক আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল সের্গেই এর | এত রাত্রে গ্যারেজ এর দরজায় ধাক্কা মারে কে? একবার বন্ধুর দিকে তাকালো | সে তখনও ঘুমোচ্ছে | অন্ধকারে ডিজিটাল ঘড়ি জানান দিচ্ছে সময় এখন সাড়ে তিনটে| গুটি গুটি পায়ে দরজার কাছে গিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো সের্গেই, "কে?" |
আবার ঠক ঠক |
মনে সাহস এনে আর হাতে একটা বেসবল ব্যাট বাগিয়ে দরজা খুলে দিল সের্গেই |
বাইরে একটা বেঁটে খাটো চেহারার লোক দাঁড়িয়ে | গালে লম্বা দাড়ি | মাথায় টাক | চোখে চশমা | বেশ সৌম্য চেহারা |
- কে আপনি?
- তোমার নাম সের্গেই তো?
- হ্যাঁ | আপনি কি করে জানলেন?
- সে কথা থাক | তোমার আর তোমার বন্ধুর ব্যাপারে অনেক কিছুই জানি | আর তোমরা যে তোমাদের প্রজেক্টটায় আটকে গেছ, সেটাও জানি |
- মানে? আপনি কি আমাদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করছেন নাকি? প্রজেক্ট এর ব্যাপারেই বা জানলেন কি করে? আমি কিন্তু এবার পুলিশ ডাকব |
- পুলিশ ডাকলে নিজেদেরই ক্ষতি করবে | তোমাদের কাজটায় আমি সাহায্য করতে পারি |
- সাহায্য? আপনি কে বলুন তো মশাই? গায়ে পরে সাহায্য করতে এসেছেন?
- তুমি আমায় প্রফেসর বলে ডাকতে পারো |
- প্রফেসর? আপনি কি শিক্ষক নাকি?
- শিক্ষকতা যৌবনকালে কিছুদিন করেছিলাম | তবে আদতে আমি বৈজ্ঞানিক |
- তা হঠাৎ আমাদের সাহায্য করতে এলেন কেন?
- অনেকদিন ধরেই যোগ্য ক্যান্ডিডেট খুঁজছিলাম | খোঁজ খবর নিয়ে তোমাদের মনে ধরল | তোমরা দুই বন্ধুই বেশ বুদ্ধিমান | আর তোমাদের প্রজেক্টটাও আমার উপযোগী | চিন্তা কোরোনা | আমি খারাপ লোক নই |
- বেশ, কি চান বলুন?
- আজ থেকে চার বছর আগে আমার এক বন্ধুর মৃত্যু হয় | মারা যাবার আগে তার শেষ ইচ্ছে ছিল যে তিনি সারা জীবন ধরে প্রচুর পড়াশোনা করে যে অপরিসীম জ্ঞান লাভ করেছেন, সেই সব যেন তার চলে যাবার পরেও সবাই ব্যবহার করতে পারে |
- বই লিখে গেছিলেন বুঝি?
- না হে | তিনি নিজেই ছিলেন একটি আস্ত বিশ্ব কোষ | হেন বিষয় ছিল না যা নিয়ে জানতেন না | আর সেই সঙ্গে অসামান্য মেমরি | আমরা বাংলায় যাকে বলি শ্রুতিধর | একটি কেন, দশটি বই তেও তাকে ধরা যাবে না |
- বেশ | তারপর?
- আমি রিসার্চ করে একটা মেশিন বানালাম যা দিয়ে একটা মানুষের গোটা সত্তাটা ইলেক্ট্রনিকালী একটা সফটওয়্যার এ ট্রান্সফার করে ফেলা যায় |
- হোয়াট? তা কি করে সম্ভব? মিথ্যে কথা বলার জায়গা পাননি? এরম কোন যন্ত্র তৈরি হলে গোটা পৃথিবীতে হুলুস্থুল পরে যেত |
- তা যেত | লোকে জানতে পারলে ঠিকই যেত | কিন্তু আমি কাউকে জানাইনি | আমার এরম আরও অনেক আবিষ্কার ছিল | শুনলে তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না | এই হচ্ছে সেই চিপ যাতে আছে আমার সেই বন্ধুর সত্তা, তার অসামান্য জ্ঞান | তোমাদের প্রজেক্টে এই চিপ টাকে ইন্টিগ্রেট কর সের্গেই | গোটা দুনিয়া লাভবান হবে |
- কিন্তু আমি আপনাকে বিশ্বাস করব কেন? আপনি আমাদের প্রজেক্টটাকে স্যাবোটাজ করতে আসেননি, তার কি গ্যারান্টি? ওই চিপটাতে কোন ভাইরাস আছে কি না, তার কি গ্যারান্টি?
- না | এক আমার মুখের কথা ছাড়া কোন গ্যারান্টি নেই | কিন্তু সব সময়ে কি সমস্ত জিনিসের গ্যারান্টি দেওয়া যায়? 'লিপ অফ ফেথ' বলেও একটা কথা আছে | ঠিক কি না?
- তা আছে | তবে আপনার কথা বিশ্বাস করতে আমার মন চাইছে না | এতক্ষণ খালি মুখেই প্রচুর কথা দিলেন, একটা কিছু প্রমাণ যদি পেতাম |
- প্রমাণ? বেশ | ভেবেছিলাম যে আর কোনদিন নিজের কোন আবিষ্কার আর ব্যবহার করব না | কিন্তু তুমি বাধ্য করলে | তবে এই দেখো |
কোটের পকেট থেকে একটা অদ্ভুত দেখতে নলওয়ালা যন্ত্র বার করলেন প্রফেসর | বললেন, "ওই পাথরটা দেখছ?" |

*******************************
চমকে গেছিল সের্গেই | নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না | মৃদু হেসে প্রফেসর বলে উঠলেন, "এখন বিশ্বাস হল তো? নাও | এবার চিপ টা নাও|"
কিছু না বলে চুপচাপ হাত পেতে চিপ টা নিয়ে নিলো সের্গেই |
- চলি হে | গুড লাক | আমি জানি তোমরা সফল হবে |
কিছু বলার মত অবস্থায় ছিল না সের্গেই | খালি বোকার মত হাত নাড়তে লাগলো |

*******************************
সুনসান রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে নিজেকে ভারী হালকা মনে হচ্ছিল প্রফেসরের | কর্তব্য পালন করা গেছে | কোটের ভেতরে রাখা অ্যানাইহিলীন বন্দুকটার গায়ে একবার হাত বুলিয়ে নিলেন প্রফেসর | বন্দুক দিয়ে পাথরটাকে গায়েব করে দেবার পর সের্গেই এর মুখের অবস্থাটা ভেবে একটু হাসিই পেল | তবে ছেলেটি আর তার বন্ধুটি - দুজনেই খুব বুদ্ধিমান | তিনি নিশ্চিত যে ওরা দুজনে সফল হবে | গোটা পৃথিবীর লোক লাভবান হবে মিস্টার বোসের জ্ঞান ভাণ্ডার দ্বারা | মিস্টার বোসের কথা মনে পরাতে একটু মনটা ভারী হয়ে গেল প্রফেসরের | কে জানে কি কারণে ওনাকে কোনদিনই মিস্টার বোস ছাড়া আর কিছু ডাকা হয়নি | উনি অনেকবার বলেছিলেন, "আরে, আপনি আমায় অত ফর্মালি ডাকেন কেন? সিদ্ধেশ্বর বলে ডাকুন বা ছোট করে সিধু | সমবয়সী তো আর বিশেষ কেউ নেই | ছোটরা সবাই সিধু জ্যাঠা বলেই ডেকে এলো চিরটাকাল |"

*******************************
গ্যারেজ এর ভেতরে ল্যারিকে ঘুম থেকে টেনে তুলল সের্গেই | প্রফেসরের কথা যদি ঠিক হয়, তাহলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সার্চ ইঞ্জিন বানানোর ফর্মুলা তাদের হাতের মুঠোয়ে |